The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার করার ক্ষেত্রে ইসির ১৩ শর্ত

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার করার ক্ষেত্রে ইসির ১৩ শর্ত
সংগৃহীত

আগামী ২০ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদ করতে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তথ‌্য হালনাগাদের সময় তালিকায় যাতে কোনোভাবেই মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গারা অন্তর্ভূক্ত হতে না পারে, সেই জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে কিছু শর্ত ও নির্দেশনা দিয়ে ইতিমধ্যে  মাঠপর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইসির সহকারি সচিব মো . মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে ১৩টি শর্ত যুক্ত করে সকল সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা/ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার করার ক্ষেত্রে যে ১৩টি শর্ত অনুসরণ করতে হবে:

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে যদি কেউ তাদের স্বপক্ষে সহযোগিতা অথবা মিথ্যা তথ্য দেন এবং মিথ্যা কাগজপত্র সরবরাহ করেন এবং তা যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়। তাহলে তাদে বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

বিশেষ এলাকাসমূহে ভোটারদের ভোটার এলাকা স্থানান্তর কার্যক্রম সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে যদি কেউ তাদের স্বপক্ষে সহযোগিতা অথবা মিথ্যা তথ্য দেন অথবা ভুয়া কাগজপত্র সরবরাহ করেন তা যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

বিশেষ এলাকাসমূহে ভূমিহীন সনদে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রত্যয়ন ছাড়া কাগজাদি কোনোরুপেই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং জমির খতিয়ান/দলিল (দাদা/পিতা/স্বামী/নিজ নামীয়) সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রত্যয়নকৃত না হলে তা অগ্রহণযোগ্য হবে।

হালনাগাদ কার্যক্রম ও চলমান প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া থেকে নিবৃত করার বিষয়ে কারো গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং প্রচলিত আইনানুগ ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

হালনাগাদ কার্যক্রমে বিশেষ এলাকাসমূহে জমির দলিল ও পাওয়ার অব এটর্নীর দলিল নোটারীর মাধ্যমে করা হলে তা অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হবে;

বিশেষ এলাকাসমূহে বাংলাদেশি ছেলের সাথে মায়ানমারের মেয়ে এবং মায়ানমারের ছেলের সাথে বাংলাদেশি মেয়ের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশি নাগরিক দাবিকারীদের ভোটার করা যাবে না।

বিশেষ এলাকাসমূহে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান- ২০২০ অনুযায়ী যেসব বাংলাদেশের নাগরিকরা গৃহ পাবেন তাদের ক্ষেত্রে সরকারি গৃহ পাওয়ার বরাদ্দপত্র, গৃহ গ্রহণের প্রমাণক এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ইস্যুকৃত নাগরিকত্ব/জাতীয়তা সনদপত্র স্মারক নম্বর ও তারিখ সম্বলিত কাগজাদি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত হলে তা যাচাই করে গ্রহণ করা যাবে

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষ এলাকার ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাগরিক সনদ (রঙিন ছবিযুক্ত), তার পিতা-মাতা/স্বামী/স্ত্রী এনআইডি, পিতা-মাতার নাগরিক সনদ, নিকাহনামা (বিবাহিত হলে), পাসপোর্ট (যদি থাকে); পাবলিক পরীক্ষার সনদ এবং অনলাইন জন্ম/মৃত্যু সনদের ভেরিভাইড কপি যাচাইপূর্বক গ্রহণযোগ্য হবে।

স্থানীয় মেয়র/চেয়ারম্যান কর্তৃক সম্প্রতি প্রদত্ত জাতীয়তা/নাগরিকত্ব সনদের মূলকপি, স্মারক নং ও তারিখ সম্বলিত প্রত্যয়নপত্র, রঙিন ছবিযুক্ত ও ছবির উপর কর্তৃপক্ষের সীলমোহর সম্বলিত হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে; রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য ফরমের পাশাপাশি ভোটারযোগ্য নাগরিকদেরকে অনলাইনে নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) পূরণ এবং পূরণকৃত ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে দাখিল করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে বিশেষ এলাকার জন্য অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম আবশ্যিকভাবে পূরণ করে দাখিল করতে হবে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজাররা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান/সাধারণ ম্বেম্বার/সংরক্ষিত মেম্বার/চৌকিদারের সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

রোহিঙ্গারা যাতে কোনো মতেই ভোটার হিসেবে বিশেষ এলাকাসমূহে বা দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে নিবন্ধিত না হতে পারে সেবিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষ এলাকাসমূহের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য ফরমে উল্লিখিত যাবতীয় তথ্যাদি এবং তথ্যাদির স্বপক্ষে প্রমাণক হিসেবে দাখিলকৃত ডকুমেন্টস ‘বিশেষ কমিটি’ কে বিশেষ এলাকার জন্য প্রযোজ্য প্রতিটি বিশেষ ফরম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-পূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৪ জেলা হলো চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার।এসব জেলার ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করেছে ইসি। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার ৮টি, বান্দরবানের ৭টি, রাঙামাটির ৮ এবং চট্টগ্রামের ৯টি উপজেলা রয়েছে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৪ জেলার উপজেলাগুলো হলো- কক্সবাজারের সদর উপজেলা, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া। বান্দরবানের সদর, রুমা, থানচি, বোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি।

রাঙামাটির সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল এবং চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলা।

এর আগে নুরুল হুদার কমিশন ১ মার্চ ভোটার দিবস ঘোষণা করেন এবং জানুয়ারির পরিবর্তে মার্চ থেকে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করেন। হালনাগাদ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগও আছে। ঘরে ঘরে না গিয়েই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তালিকা পূর্ণ করার ঘটনাও ঘটেছে।

ভুতুড়ে ভোটারও পাওয়া গেছে অতীতের ভোটার তালিকায়। এই ইস্যুতে ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন বাতিল হয়। তবে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার পরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিকভাবে হালনাগাদ করতে পারেনি কমিশন।

সর্বশেষ গত ২ মার্চ ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১ কোটি ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ, ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৭ জন নারী।