The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

দোয়ারাবাজারে লাখো মানুষ পানিবন্দি, যোগাযোগ বন্ধ

দোয়ারাবাজারে লাখো মানুষ পানিবন্দি, যোগাযোগ বন্ধ
ছবি: প্রতিনিধি

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কাবু হয়ে পড়েছন মানুষ। উপজেলা সদরের সাথে সবকটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি হ্রাস পাচ্ছে না। সুরমাসহ সব নদী-নালা, হাওর, খাল-বিলের পানি ধীর গতিতে হ্রাস পেলেও দুর্ভোগ বাড়ছে চরমে। গত ৪দিন ধরে পানিবন্দী রয়েছে শতাধিক গ্রামের মানুষ।  ভারি বর্ষণের ফলে ভাটিতে পানির টান না থাকায় নিম্নাঞ্চলের পানি এখনও থমকে আছে। বৃহষ্পতিবার সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকসহ জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসাইন বন্য কবলিত এলাকা পরির্শন করেছন এবং আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থা এমনিতেই ছিল নাজুক, তার উপর লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি না নামতেই সপ্তাহকাল ব্যবধানে ফের বন্যায় ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। এ ছাড়া অপ্রতুল ত্রাণ,  বিশুদ্ধ পানীয় জলসহ মানুষ ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে বানভাসিরা পড়েছেন বিপাকে। এ দিকে বন্যায় খামারিদের মাছের ঘের ভেসে যাওয়া কপাল পুড়েছে খমারীদের।  

এদিকে বন্যার চতুর্থ দিনে বৃহষ্পতিবার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের দোয়ারাবাজার দোহালিয়ার অংশের ব্রিজটি ভেঙে গেলে জেলা সদরের সাথে দুই উপজেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েগেছে। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো এখনও পানির নীচে থাকায় উপজেলা সদরের সাথে ৯ ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার সর্বত্র বানভাসি মানুষের আহাজারি চলছে।

সরজমিনে সুরমা ইউনিয়নের আলীপুরে গিয়ে দেখা যায়, খাসিয়ামারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আলীপুর বাজার, আলীপুর মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়ক ও নূরপুর থেকে আলীপুর সড়কের উপর দিয়ে হাঁটু সমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর, ভুজনা, আলীপুর, নূরপুর, সোনাপুর, নন্দীগ্রাম, বৈঠাখাই, টেংরাটিলা, টিলাগাঁও, বরকতনগর, লক্ষীপুর ইউনিয়নের বড়কাটা, তিলোরাকান্দি, নরসিংপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। খাসিয়ামারা, চিলাই, চেলা, কালিউরি ও মৌলানদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তু বর্মন জানান, 'উপজেলা সদরের নৈনগাঁও ও সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৫০ টি মাছ চাষের পুকুর তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরে তালিকা করা হচ্ছে।' 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, 'এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রায় ৩০০ হেক্টর বোরো ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।' 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা আম্বিয়া আহমদ জানান, 'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ আমরা বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে বের হয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। যারা পানিবন্দী তাদেরকে অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।' 

দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান  তানভীর আশরাফী বাবু জানান, 'উপজেলার সবকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ সাধারণ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করতে শুকনো খাবার, ঔষুধ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বন্যাশ্রয় কেন্দ্র গুলি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'