The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ‘ডিজিটাল কারচুপি’, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ‘ডিজিটাল কারচুপি’, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব
সংগৃহীত

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ডিজিটাল ওজন স্কেলে অভিনব কায়দায় পণ্যের ওজন কম-বেশি করা হচ্ছে। ‘ডিজিটাল কারচুপি’র জন্যে জরিমানা দিতে হচ্ছে সিএন্ডএফ এজেন্টদের।

এতে লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। গেল ১৩ জুন ডিজিটাল কারচুপির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে দুই কর্মচারী; তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটানের সাথে পাথর, চাল, গম ও ভূট্টা আমদানি রফতানি হয়। পণ্য পরিমাপের জন্য তিনটি ডিজিটাল ওজন স্কেল এখানে বসানো হয়।

কয়েকদিন ধরেই একটি ডিজিটাল স্কেল বিকল হয়ে পড়ে। ঘুষের বিনিময়ে ওজন স্কেলে পরিমাপ কমবেশি করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী এবং সিএন্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওজনে ডিজিটাল কারচুপি চলছে। আমদানি পণ্যের ওজন বেশি এবং রফতানি পণ্যের ওজন কম দেখানো হচ্ছে। এরকম দুর্নীতি গত ২-৩ বছর ধরে হচ্ছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

পোর্টের ইনচার্জসহ স্কেলের সাথে যারা থাকে তারা সবাই পোর্টের সাথে দুর্নীতি করে বলেও অভিযোগ করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, অনেক সময় চুরির দায়ে অভিযুক্ত করা হয় তাদের।

এতে বিদেশি চালকদেরও জরিমানা গুনতে হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিটনে ২ থেকে ৫ শ কেজি ওজনে কম হচ্ছে। একজন আমদানীকারক কমপক্ষে ৩০ টন মালামাল আমদানি করেন।

সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে ডিজিটাল স্কেলের সাথে সমন্বয় করে ভারতীয় ট্রাকে পণ্য বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা যখন পণ্যটা তুলি তখন সেটা কম হয়ে যায়। ভারতীয় এক চালকের মাধ্যমে এটা প্রমাণিতও হয় যে, এখানে ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে কারচুপি হয়ে আসছে।

ডিজিটাল স্কেলে ওজন কমানোর অভিযোগে দুই কর্মচারীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদারকির আওতায় এনেছে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড।

পোর্ট ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগত ওজন এবং দেয়ার ওজনে তফাৎ হচ্ছে। আমরা একটা অনুসন্ধান করেছি এবং আরও করছি। শীঘ্রই এ ব্যাপারে সকল স্টেক হোল্ডার এবং প্রশাসনকে সাথে নিয়ে একটি মিটিংয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের জিএম মো: হাবিবুর রহমান বলেন, স্কেলের ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। স্কেল অপারেটরের কিছু অনিয়ম তারা অভিযোগ আকারে দিয়েছেন। আমরা এটি তদন্ত করে যদি অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাই, তবে অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেবো।