The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

জমি দখলে নিয়ে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলো সন্তানেরা

জমি দখলে নিয়ে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলো সন্তানেরা

নজরুল ইসলাম নাহিদ, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:  টাঙ্গাইলের সখীপুরে গর্ভধারনী মা আনোয়ারা বেগমকে (৭০) বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে থাকার ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে সন্তানেরা।

উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চকচকিয়া শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত নয়দিন ধরে ওই বৃদ্ধা মেয়ের বাড়ি পাশ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার কৈয়াদী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। আনোয়ারা বেগম শ্রীপর এলাকার মৃত মাঈন উদ্দিনের স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই বৃদ্ধা ছেলেদের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ারা বেগমের স্বামী মারা যায়। স্বামীর রেখে যাওয়া ২২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করে অনেক কষ্টে ৫ ছেলে ও ১ মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। 

সম্প্রতি ৫ছেলে কালাম, আমিরা, সুমিয়া, আলম ও সালমান জোর করে জমি দখল নেয়। গত নয় দিন আগে মায়ের থাকার একমাত্র ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে তারা তার মাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃদ্ধ আনোয়ায়া বেগমকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে কান্না  করতে দেখে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া আমার ২২ শতাংশ জমি ছিল। কয়দিন আগে জমিটুকু ছেলেরা দখলে নিয়েছে। আবার আমার থাকার ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে আমাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।কিছুদিন আমি এবাড়ি-ওবাড়ি ছিলাম। খবর পেয়ে মেয়ে এসে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এতো কষ্ট তরে সন্তানদের বড় করলেও তারা আমাকে কোন দিনও ভরন পোষণের খরচ দেয় নাই। বাবারা আমি আমার ছেলেদের বিচার চাই আমার স্বামীর ভিটা ফিরা পাইতে চাই। আমি বাকিটা জীবন ওখানেই কাটামু। 

এ ব্যাপারে আনোয়ারা বেগমের বড় ছেলে আবুল কালামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জমি জোর করে দখলে নেওয়া হয়নি। ওখানে আমাদের থাকার জন্য ঘর বানাবো তাই পূর্বের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে ।

আনোয়ারার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৩৮) বলেন, ভাইয়েরা মায়ের জমি দখল নিয়েছে। থাকার একমাত্র ঘরটি ভেঙে দিয়ে এক কাপড়ে মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।