The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

বেড়িবাঁধে স্থায়ী সমাধান চায় কুতুবদিয়াবাসী 

বেড়িবাঁধে স্থায়ী সমাধান চায় কুতুবদিয়াবাসী 

আবুল কাশেম, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: মেরামতের তিনমাস না পেরোতেই দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় আবারও বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙন কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এই উপজেলার অসংখ্য মানুষ। এমনকি গত পূর্ণিমার জোয়ারে উপজেলা কৈয়ারবিল, দক্ষিণ ধূরুং, লেমশীখালী ও আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের 

বেড়িবাঁধের মোট ১৩ টি অংশ ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকটি অংশে পানি ঢুকেছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে তলিয়ে যাবে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে দ্বীপের চারিদিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে আসলেও এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ পায়নি কুতুবদিয়াবাসী। প্রতি বছর বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ পুননির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু, মাস দুয়েক না যেতেই বিলিন হচ্ছে বেড়িবাঁধ। 

উত্তর কৈয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা ফরিদ আলম জানান, কয়েকমাস আগে কৈয়ারবিল ও দক্ষিণ ধূরুং অংশে বেড়িবাঁধের পাস থেকে বালি দিয়ে বাধ নির্মাণ করায় নির্মাণ করে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকা বাসী বালি দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাঁধা দেয়। কিন্তু ঠিকাদার কারও কোন কথা না শুনে বালি দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে চলে যায়। পূর্ণিমার জোয়ারে বালির বাঁধ ভেঙে গেছে। আগামী অমাবস্যার আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে তলিয়ে যাবে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি।

দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলাউদ্দিন আল আযাদ জানান, আগামী অমাবস্যা,দুর্যোগ বা সাগরে পানি বাড়লে লোকায়লে পানি প্রবেশ করে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

শুধুমাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের গুনগত মান ঠিক না রেখে বিভিন্ন অনিয়ম করায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।তাই বেড়িবাঁধের এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী অরুপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কুতুবদিয়া হচ্ছে একটা ভাঙ্গন এলাকা সমুদ্রের জোয়ারের পানি সরাসরি বেড়িবাঁধে আঘাত আনায় বেড়িবাঁধ সমসময় ঝুঁকিতে থাকে, এর স্থানীয় সমাধান সুপার ডাইকের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ। 

গত পূর্ণিমার জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে দ্রæত নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে, বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু হবে বলে জানান। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক, গত পূর্নিমার জোয়ারে কুতুবদিয়া ১৩ টি পয়েন্টে নতুন ভাবে ভাঙন হয়েছে, সুপার ডাইক বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত যে সব এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙা আছে তা দ্রুত নির্মাণ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে বলে জানান। 

সচেতন মহল বলছে, ব্লক আর জিও ব্যাগের মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার পাশাপাশি কাজের যথাযথ তদারকি করলে কাজ টেকসই হবে।