The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

মোদি-মমতার রুদ্ধদ্বার বৈঠক, কী হলো আলোচনা

মোদি-মমতার রুদ্ধদ্বার বৈঠক, কী হলো আলোচনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেল পৌঁনে ৫টার দিকে মোদির সঙ্গে মমতার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণে মার্গে গিয়ে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সৌজন্য সাক্ষাতের পর উভয় নেতার বৈঠক শুরু হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল বকেয়া টাকার দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তুলে ধরার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতার। এছাড়া পণ্য এবং সেবা ট্যাক্স (জিএসটি) বাবদ পাওনা টাকার কথাও মমতা তুলবেন বলে জানানো হয়।

তবে বৈঠক শেষে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের। আসলে কী হলো উভয়ের আলোচনায়!

যদিও কংগ্রেসসহ দেশটির বিরোধী দলগুলোর দাবি, রাজ্যে ইডি, সিবিআই তদন্ত বন্ধ করার দাবি নিয়েই মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মমতা।

এর আগেও দিল্লি গিয়ে অনেকবারই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা। কংগ্রেস ও সিপিএম নেতারা অতীতে বহুবার অভিযোগ করেছেন, মোদি-মমতার এসব বৈঠক আদতে রাজনৈতিক সমঝোতা। ব্রিগেডের জনসভা থেকে সিপিএম সারদা নিয়ে মোদি-মমতা সমঝোতার অভিযোগ করেছে।

কিন্তু অন্যবারের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি পুরোপুরি আলাদা। রাজ্যে দুর্নীতিতে সিবিআই-ইডির তদন্ত চলছে। পার্থ-অর্পিতার একের পর এক সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি। বুধবারও তারা শান্তিনিকেতনে গিয়েছিল এরকমই কিছু বাড়িতে তল্লাশি চালাতে। অর্পিতার বাড়ি থেকে ৫০ কোটি টাকা ও প্রচুর গয়না উদ্ধার করেছে ইডি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতার ও প্রচুর গয়নার হদিস মেলার পরিপ্রেক্ষিতে মোদি-মমতার এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এসব কারণে একপ্রকার বিব্রতই তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। ইতোমধ্যে পার্থ-অর্পিতার বাড়িতে ইডির তল্লাশি ও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তির খোঁজ পাওয়ার পর তৃণমূল থেকে পার্থকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার মন্ত্রীপদও গেছে।

কিন্তু তারপরেও সিপিএম সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, যা সামনে এসেছে, তা কিছুই নয়। কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি না হলে আসল জায়গা বাদ থেকে যাবে। কংগ্রেসও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।