The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক মহড়া, বৈশ্বিক সরবরাহ বিচ্ছিন্ন

তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক মহড়া, বৈশ্বিক সরবরাহ বিচ্ছিন্ন

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিতর্কিত সফর শেষ হওয়ার পরদিনই কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে ইতিহাসের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।

চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে এই উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদী হলে বৈশ্বিক সরবরাহ (আমদানি-রফতানি-বাণিজ্য) ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বহু বিদেশি বিমান সংস্থা পরিহার করছে তাইওয়ানের ‘এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল’ (এটিসি) নিয়ন্ত্রিত আকাশপথও।

চীনের সামরিক মহড়ার কারণে তাইওয়ানের আকাশপথে ঢুকতে পারছে না বিভিন্ন দেশের বেসামরিক বিমান। এ পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের শোংশান বিমানবন্দর থেকে এক-এক করে বিদেশি বিমান মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই আশঙ্কা সত্যি হলে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে তাইওয়ান সরকার। আমদানি-রফতানিতে ব্যাপক ধস নামতে পারে। ১৯৯৬ সালে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর এ অঞ্চলে চীনের সবচেয়ে বৃহত্তম মহড়ার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলে এই বিঘ্ন ঘটছে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাইওয়ানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও পরিবহন বিষয়ক সূচক তাইয়েক্স শিপিং অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন ইনডেক্স অনুযায়ী, চীন মহড়া শুরু করার পর থেকে বৃহস্পতিবারই (০৪ আগস্ট) সূচকের পতন ঘটেছে ১ দশমিক ০৫ শতাংশ।

প্রণালীর ওপর আকাশপথেও মহড়া দিচ্ছে চীনা বিমানবাহিনী। এ কারণে তাইওয়ানের সংলগ্ন চীনের প্রদেশ ফুজিয়ানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৪শ’রও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তাইওয়ান প্রণালী বিশ্বের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কল-কারখানায় উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক পণ্যবাহী জাহাজসমূহ মূলত এ পথ ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। এছাড়া তরলীকৃত জ্বালানি গ্যাসের (এলএনজি) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও অনেকাংশে এই প্রণালী নির্ভর।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী একাধিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম সাত মাস বিশ্বজুড়ে কন্টেইনারবাহী যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে, তার অর্ধেকই যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করে তাইওয়ান প্রণালী, যেটি তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা বলে পরিচিত নিক মারো এক বার্তায় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্য যে সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে এখন বৈশ্বিক সরবরাহ বা আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সামান্য বাধাগ্রস্ত হলেও সেজন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

তারা আরও জানায়, যদি তাইওয়ান প্রণালী আকাশপথে চীনের মহড়ার কারণে অস্থায়ীভাবেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়, তাহলে কেবল তাইওয়ানেই নয়, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও তার ধাক্কা লাগবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান সংস্থা তাদের শুক্রবার (০৫ আগস্ট) ও শনিবারের (০৬ আগস্ট) তাইওয়ানে সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা করে জানিয়েছে, রোববারের (০৭ আগস্ট) পর পরবর্তী  সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পাশাপাশি, এশিয়া এবং ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশপথ বদলেছে।

বড় ধরনের সামরিক মহড়া চলাকালে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া এবং বিমানের আকাশপথ পরিবর্তন সারা বিশ্বে নিয়মিত ঘটে থাকে। নিরাপত্তার কারণে পরিহার করা হচ্ছে তাইওয়ানের ‘এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল’ (এটিসি) নিয়ন্ত্রিত আকাশপথ।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাইওয়ানের সতর্কবার্তা পেয়েই আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বিমান চলাচল। এতে দৃশ্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তাইওয়ান।

হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ ও ফিলিপাইন এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের বিমানগুলো তাইওয়ানের চারপাশে নির্ধারিত আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। এতে কিছু ফ্লাইটের গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগছে। ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা তাইওয়ানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে দেশটির উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে।

জাপান এয়ারলাইনসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাইপে স্বাভাবিক সময়ের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে তারা যেসব এলাকায় মহড়া চলছে, সেসব এলাকার আকাশসীমা এড়িয়ে যাচ্ছে। হংকং ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একইভাবে চলাচল করছে।