The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ভিসি প্যানেল নির্বাচন কে ঘিরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরছে জাবিতে

ভিসি প্যানেল নির্বাচন কে ঘিরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরছে জাবিতে

জুবায়ের আহমেদ, জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ আট বছর পর উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার প্রেক্ষিতে আগামী ১২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটের বিশেষ অধিবেশন বসবে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে আসবে। এদিকে গত ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক উপাচার্যের পদ ও প্যানেল নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট মো. শামসুজ্জোহার পক্ষে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলা উদ্দিন আহমেদ। তিনি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে রিট করেন বলে উল্লেখিত আছে। এ রিটের পরিশিষ্ট নথি ‘ডি’তে একটি গোপনীয় চিঠি সংযুক্ত রয়েছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতারকে পাঠান রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। চিঠিটি গোপনীয় বলেও উল্লেখ রয়েছে। ফলে নির্বাচন স্থগিতের জন্য রিট আবেদনে অধ্যাপক রাশেদা আখতারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘রিট আবেদনে আমাকে পাঠানো চিঠির কথা উল্লেখ থাকলেও রিটের সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়না। কেননা রিট আমি করিনি এবং রিটের পক্ষে কোথাও আমার নাম নেই। আমি রিট সম্পর্কে কোনভাবেই অবগত নই। আমার কাছে রেজিস্ট্রারের দেওয়া চিঠি খামবদ্ধ অবস্থায় ছিলো। তাই এই চিঠি সেখানে কিভাবে গেছে; তা খতিয়ে দেখতে রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘পদাধিকার বলে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্যানেল নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হওয়াই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা।’  

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা ও মূল্যবোধ ফিরে আসুক সেটা সকলের প্রত্যাশা। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরী। তাই সকলের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

অধ্যাপক রাশেদা আখতারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ প্রশাসনের অংশ হয়েও যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করতে চায় তবে সেটা দুঃখজনক। আমি শুনেছি বিভিন্নভাবে কেউ সেরকম চেষ্টা চালাচ্ছে, যদি সেটা সত্য হয়ে থাকে তবে সেটা সমীচীন নয়।’

আগামিকাল (সোমবার) উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন নিয়ে আদালতে দায়ের করা রিটের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে প্যানেল নির্বাচনের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী বলেন, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের বিপক্ষে রিট আবেদনের উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। আশা করি, বিজ্ঞ আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞান উৎপাদন ও চর্চাকে উৎসাহিত করবে।  

রিটের বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ১২ আগস্ট সিনেটে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন সুষ্ঠু করার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর মেহেদী জামিল বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীল ক্যাম্পাস ফিরিয়ে আনতে প্যানেল নির্বাচন জরুরি। আশা করি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল যোগ্যরা দায়িত্বে আসতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনেট সদস্য বলছেন, ১৯৭৩ সালের প্রণীত জাবির অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভিসি প্যানেল নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য। কোষাধ্যক্ষের মতো শীর্ষ দায়িত্বে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এমন তথ্য পাচার ও ষড়যন্ত্র শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিদায়ের ছয় মাস পার হলেও উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে। সকলেই তাই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের নিয়ে আশাবাদী।