The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাউজানে ৬ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

রাউজানে ৬ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাত চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন থানা পুলিশ। 

আটককৃতরা হলেন রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রাজার পাড়া গ্রামের মৃত হোসেনের পুত্র মো. নুরুল আবছার (৪৩), একই ইউনিয়নের পলোয়ান পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র কামরুল হাসান টিটু (৫৫) ও হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ (বাদামতল) এলাকার মৃত কামাল উদ্দিনের পুত্র গিয়াসউদ্দিন বাবলু ওরফে সাদ্দাম (৩০)।

তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ২ টি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১৩ রাউন্ড বুলেট, ১০ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ০১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। 

বুধবার (১৭আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তিন সন্ত্রাসীকে উপস্থিত করে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার এসএম রাশিদুল হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির আহমদ, সুজন চন্দ্র সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, সহকারি পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম, রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন।

জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) ও অফিসার ইনচার্জ, রাউজান থানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া ইউনিয়নস্থ পলোয়ান পাড়া এলাকার একটি বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে সেখান থেকে ৭/৮ জন ব্যক্তি হুড়োহুড়ি করে দৌড়ে পালিয়ে যান। এই সময় পুলিশ ৩ ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে ফেলেন।

আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ২ টি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল, ইতালি নির্মিত ১ টি ৭.৬৫ সেমি অটোমেটিক পিস্তল এবং ৪৫ রাউন্ড একে-২২ এর বুলেট, ৮ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম বুলেট ও ১০ রাউন্ড অজ্ঞাত অস্ত্রের বুলেট জব্দ করা হয়। 

এছাড়াও সেখান থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হিরো গøামার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত মো. নুরুল আবছার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার বসতঘরের স্টিলের আলমিরায় আরো ১ টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ১ টি এক নলা বন্দুক, একটি এলজি বন্দুক এবং ৫০ রাউন্ড একে-২২ এর অচল বুলেট ও শটগানের ১০ রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়।

রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের মধ্যে কামরুল হাসান টিটু বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তাঁর উত্থান এনডিপি’র ক্যাডার হিসেবে। 

এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের সহযোগি হিসাবে কাজ করতেন। তখন থেকে এলাকায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজী ও ডাকাতির মত দ‚র্র্ধষ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্প লুট ও পুলিশ হত্যা, চাঞ্চল্যকর শ্রীকান্ত রক্ষিত হত্যা ও নোয়াপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হত্যাসহ ৮টি খুনের মামলা, ১টি ডাকাতি, ও ৬টি অপহরণ মামলাসহ কমপক্ষে ১৭টি মামলা রয়েছে। গত ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রæয়ারি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডান পা হারানোর পর থেকেই ডাকাত ও ভাড়াটে খুনি চক্রের সংগঠক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। 

মো. নুরুল আবছারও বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও দুবাই প্রবাসী জসিম উদ্দিনের ক্যাডার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তবে স¤প্রতি তিনি ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেন। গ্রেপ্তার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল মিয়া হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সংঘটনকারী হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। উদ্ধারকৃত এক নলা বন্দুকটি নিয়েই তিনি সেদিন হত্যার মিশনে নেমেছিলেন মর্মে জানান।

অপর আসামী গিয়াসউদ্দিন বাবলু ওরফে সাদ্দাম ম‚লত এই ডাকাত ও খুনি চক্রের ভাড়াটে সদস্য। বিভিন্ন অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি ডাকাতি ও খুনের কাজ যোগদান করতেন।