The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২

  • ‘দেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না’ প্রধানমন্ত্রীর জন্যই সারাদেশে শান্তির সুবাতাস বইছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ‘ত্বরিৎ’ আবেদন করেছে ইউক্রেন বিএনপির বক্তব্য ও রডের মাথায় জাতীয় পতাকা একসূত্রে গাঁথা: তথ্যমন্ত্রী লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টি পুতিনকে ‘রক্তপিপাসু’ বললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পাবনায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে যুবককে হত্যা দুর্গাপূজার সাথে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: রাষ্ট্রপতি মোল্লাহাটে শিশু কিশোর কিশোরী কার্যালয়ের যুগপূর্তি অনুষ্ঠিত বিএনপির মিথ্যাচারে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
  • বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে আদায়কৃত টাকা ফেরত পেল চা-শ্রমিকরা

    বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে আদায়কৃত টাকা ফেরত পেল চা-শ্রমিকরা

    আব্দুর রব, বড়লেখা প্রতিনিধি: গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টাকা ফেরত পেল জুড়ীর ফুলতলা চা বাগানের আওতাধীন এলবিন টিলা ফাঁড়ি বাগানের ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। 

    ওই বাগানের ৩৫০ চা-শ্রমিকের কাছ থেকে পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার কথা বলে প্রথম কিস্তিতে নেওয়া ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে ঠিকাদারের মনোনীত ইলেকট্রিশিয়ান শাহাজান আহমদ। টাকা ফেরৎ পাওয়ার বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগানের সর্দার সজল বোনার্জি। 

    গত সোমবাব বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে ‘জুড়ী উপজেলার ফুলতলা চা-বাগান-বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়’ শিরোনামে সংবাদ ছাপা হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। ওইদিনই মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহা-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি মৌলভীবাজার সদর দপ্তরের ডিজিএম (কারিগরি) নজরুল ইসলামকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর সদস্য হলেন বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন।  

    পরদিন মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগানের মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী চা-শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন।

    এদিকে তদন্ত চলাকালীন মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগানের মন্দির এলাকা থেকে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেন ঠিকাদারের লোকজন।

    এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগানের সর্দার সজল বোনার্জি জানান, বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য আমাদের একটা কমিটি হয়। ইলেকট্রিশিয়ান শাহাজান ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য যে টাকাগুলো নিয়েছিল পত্রিকায় সংবাদ আসার পর সে তা ফেরত দিয়েছে। শাহাজান বলেছে, তারা না-কি বিদ্যুৎ দিতে পারবে না। সজল বোনার্জির মত টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, বাগানের হাসপাতালের কর্মচারী (ড্রেসারম্যান) শমীরন দাসও।

    আলাপকালে চা-শ্রমিকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করে ইলেকট্রিশিয়ান শাহাজান আহমদ বলেন, ‘দুলু মÐলের কাছে কিছু টাকা ছিল, আমার কাছেও কিছু ছিল। দুলু ওই টাকা আমাকে ফেরত দিয়েছেন। এরপর আমি চা-শ্রমিক নেতাদের কাছে টাকাগুলো বুঝিয়ে দিয়েছি।

    তবে ঠিকাদার আব্দুল মালেকের সুপারভাইজার দুলু মণ্ডল জানান, ইলেকট্রিশিয়ান শাহাজানের সাথে আমার কোন লেনদেন হয়নি। সে হয়তো আমাদের নাম ভাঙিয়ে চা-শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকাগুলো নেয়। আর বাগান এলাকায় রাখা খুঁটিগুলো আমরা আশপাশের এলাকায় সংস্কার কাজের জন্য রেখেছিলাম। বর্ষার জন্য কাজ করতে পারিনি। এখন খুঁটিগুলো কাজের জন্য নিয়ে গেছি।

    মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া ও পিডিবির আওতাধীন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি যাওয়ার ঘটনাটির তদন্তে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নিজেও ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

    উল্লেখ্য, এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগানে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার জন্য ২০২০ সালের দিকে ডিজাইনের কাজ সম্পন্ন করেছিল মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ওই বাগানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতায় গ্রাহক থাকায় মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জিয়াউর রহমান ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চেয়ে আবেদন করেন। এই বছরের ৩০ অক্টোবর পিডিবি অনাপত্তিপত্র প্রদান না করার কারণ জানিয়ে পবিসকে চিঠি দেয়। 

    এরপর পিডিবির অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ সব কার্যক্রম স্থগিত রাখে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)। তবে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসের দিকে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টেন্ডার পেয়েছেন জানিয়ে এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ঠিকাদার মালেক, সুপারভাইজার দুলু এবং স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান শাহাজান আহমদ।

    বিদ্যুৎ সংযোগের বিনিময়ে ৩৫০ চা-শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার চুক্তি করেন তারা। চুক্তি অনুযায়ী চা-শ্রমিকেরা প্রথম কিস্তিতে অগ্রিম ৭০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন ইলেকট্রিশিয়ান শাহাজানের কাছে। এরপর সেখানে পল্লী বিদ্যুতের ৩৬টি খুঁটি আসলেও কোনো কাজ হয়নি। 
     


    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন