The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ হত্যা

ভেতরে অত্যাধুনিক পিস্তল বাইরে এলজি ব্যবহার

ভেতরে অত্যাধুনিক পিস্তল বাইরে এলজি ব্যবহার

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা প্রতিনিধি:  কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেলসহ জোড়া খুনের ঘটনায় বিদেশি অত্যাধুনিক ৭.৬৫ মডেলের পিস্তল ব্যবহার করা হয় বলে ধারণা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।  এছাড়া বাইরে আতংক ছড়াতে এলজি ব্যবহার করা হয়। 

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কুমিল্লা জেলা পুলিশের  এক কর্মকর্তা জানান, কাউন্সিলর সোহেলের গায়ে বিদ্ধ হওয়া বুলেট দেখে মনে হয়েছে এগুলো ৭ .৬৫ কিংবা ৭.৬২  মডেলের পিস্তলের।

টার্গেটকে দুশো গজ পর্যন্ত কুপোকাত করতে এ মডেল ব্যবহার করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত সুজানগর এলাকার যুবক ইমদাদুল হক  প্রিতুল জানান, গত সোমবার বিকেল ৪ টার দিকে হঠাৎ করেই একদল সন্ত্রাসী সোহেল মামার অফিসে প্রবেশ করে। তারা গুলি করতে করতে প্রবেশ করে। বাইরে দু'জন ছিলো। ভেতরে ৩/৪ জন প্রবেশ করে। সবার হাতে পিস্তল ছিলো। এ সময় তারা কাউন্সিলর সোহেল মামাকে লক্ষ্য করে এক বা দু হাত দূর থেকে  ৮/১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। আর আমরা যারা অফিসে ছিলাম তাদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ে। এ সময় আমরা প্রতিহত করতে গেলে তারা আমাদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত গুলি ছোঁড়ে। 

গুলিবিদ্ধ কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠজন মাজেদুল হক বাদল জানান,  সন্ত্রাসীরা যে সব পিস্তল ব্যবহার করেছে তা দেখে মনে হলো পিস্তলগুলো অত্যাধুনিক। তারা যখন কাউন্সিলর সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি করে তখন আমি বাঁধা দেই। তখন তারা আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। আমার ডান পায়ে গুলি লাগে। আমি তখন মরার মত ভান করে মাটিয়ে শুয়ে থাকি।  তারা আমাকে মৃত ভেবে চলে যায়। 

এদিকে ঘটনার পরে কাউন্সিলর সোহেলের কার্যালয়ের সামনে যে গুলির যে খোসা উদ্ধার করা হয় তা এলজির৷ সন্ত্রাসীরা আতংক তৈরির জন্য ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। 

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনওয়ারুল আজিম বলেন,  আমরা ধারণা করছি কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকান্ডে পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে।  আমরা আলামত ফরেনসিকে পাঠিয়েছি। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত বলতে পারবো। 

তবে কাউন্সিলর সোহেলের কার্যালয়ে সামনে যে গুলির খোসা পেয়েছি সেগুলো দেশীয় এলজির গুলির খোসা।