The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরাসরি হুমকি’

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরাসরি হুমকি’
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ছবি: সংগৃহীত

চীন, তাইওয়ানকে আক্রমণ করলে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না, বেইজিংকে এটি বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

তাইওয়ানি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল পলিসি রিসার্চ’ এর আয়োজিত ফোরামে বুধবার অনলাইনে যোগ দিয়ে আবে এসব কথা বলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে শিনজো আবে বলেন, জাপানের সেনকাকু ও সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জ এবং ইয়োনাগুনি দ্বীপ থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে তাইওয়ান। ফলে তাইপেতে সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা টোকিওর জন্যও মারাত্মক বিপদ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাইওয়ানের জরুরি অবস্থার মানে জাপানের জরুরি অবস্থা, যা মার্কিন জোটের জন্যও একই অবস্থা। বিষয়টি চীনা প্রেসিডেন্টের বোঝার কথা।

রয়টার্স জানায়, গত বছর ক্ষমতা থেকে সড়ে দাঁড়ালেও জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে শিনজো আবের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। কেননা, তিনি সরকারি দলটির সবচেয়ে বড় উপদলের প্রধান। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা একই দলের নেতা।

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ওকিনাওয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সামরিক ঘাঁটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর মধ্যে ওকিনাওয়া থেকে আকাশ পথে তাইওয়ানের দূরত্ব অল্প হওয়ায় চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলায় ঘাঁটিটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সরাসরি যুদ্ধ হলে তাইপেতে সেনা পাঠানো নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও সমর্থন দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

এর আগে গত মাসে চীনকে সতর্ক করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছিলেন, তাইওয়ানে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বদলাতে চীন শক্তি প্রয়োগ করলে অনির্দিষ্ট ‘পদক্ষেপ’ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এ ছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন থেকে শুরু করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও তাইওয়ান প্রশ্নে বেইজিংকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল দাবি করে আসছে চীন। অপরদিকে, তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌম হিসেবে দাবি করে। তাইওয়ানের পক্ষ নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। তারা দেশটিকে কূটনৈতিকসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এর বিরুদ্ধে তাইপেকে ‘উপযুক্ত শাস্তি দেয়া এবং যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনও।