The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তে অস্ট্রেলিয়া সরকার

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তে অস্ট্রেলিয়া সরকার
ছবি: আল-জাজিরা।

বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ ও নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একটি বিস্তৃত সংসদীয় তদন্ত পরিচালনা করবে অস্ট্রেলিয়া।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই ঘোষণা দেন। বিশ্বব্যাপী অ্যালফাবেট লিমিটেড ও ফেসবুকের লাগাম টানতে যে প্রচেষ্টা চলছে তার নেতৃত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য জন্য যা অনুকরণীয় মডেল হতে পারে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন আইনের সম্ভাব্যতার কথা জানিয়ে স্কট মরিসন বলেছেন, ‘বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ ও সে সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের জন্য শিগগির অস্ট্রেলিয়া বিস্তৃত পরিসরে সংসদীয় তদন্ত চালাবে।‘

তিনি জানান, তদন্ত এটি হবে বৃহৎ পরিসরে। গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদমের ধরন, কীভাবে কোম্পানিগুলো একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত হয়, কোন ধরনের বিধিনিষেধ তাদের উপর আরোপ করা যেতে পারে, তাও খতিয়ে দেখবেন আইন প্রণেতারা।

মরিসন বলেন, ‘বৃহৎ কোম্পানিকে বৃহৎ প্রশ্নের উত্তরই দিতে হবে। বড় কোম্পানিগুলোই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তাদেরকেই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

নতুন তদন্তের এই ঘোষণা অস্ট্রেলিয়া ও ফেসবুকের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ফেসবুক ভবিষ্যতের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে নাম পরিবর্তন করে ‘মেটা’ করেছে।

এ বছরের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া নতুন আইন বাস্তবায়ন করে, যেখানে ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোকে স্থানীয় কনটেন্ট ব্যাবহারের জন্য টাকা দিতে হয়। নতুন আইনে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে যেসব একাউন্টের বিরুদ্ধে মানহানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। সেসব বেনামী একাউন্টের পরিচয় প্রকাশে বাধ্য করা হয়।

যদিও শুরুর দিকে এইসব আইন মানতে চায়নি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। আলফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠান গুগল এমনকি হুমকিও দিয়েছিল যে, তারা অস্ট্রেলিয়ান সার্চ ইঞ্জিন বন্ধ করে দেবে। ফেসবুকও সে সময় অনেক কনটেন্ট বন্ধ করে দেয়।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে অনুমতি না নিয়ে গ্রাহকের তথ্য ব্যবহারের বেশকিছু অভিযোগ আছে। যার জেরে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফেসবুককে গুনতে হয় ৫ বিলিওন ডলার জরিমানা।

একই ধরনের অভিযোগে এর আগে আমেরিকান কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হয় ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে।