The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে

সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে
ছবি: প্রতিনিধি

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে। বাঁশের তৈরি সামগ্রীর কারিগররা এখন অস্তিত্ব সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বাঁশের অভাব, প্রয়োজনীয় পুঁজি ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে তাদের দুর্দিন দেখা দিয়েছে। বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে তারা এখন কোণঠাসা।

একসময় বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে চিরচেনা সেই চিত্র। এরপরেও সাতকানিয়া উপজেলার গুটি কয়েক পরিবারের মানুষ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

বর্তমানে স্বল্প দামে হাতের নাগালে প্লাস্টিক সামগ্রী পাওয়ায় কুটির শিল্পের চাহিদা আর তেমন নেই। তাছাড়াও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। এখন আর আগের মতো বাড়ির আশেপাশে বাঁশ ও বেত গাছ রাখছে না কেউ। সেগুলো কেটে বিভিন্ন চাষাবাদসহ দালান তৈরি করছে মানুষ। তাই কাঁচামাল আর আগের মতো সহজেই পাওয়া যায় না।

এখন আর যেখানে সেখানে দেখা মেলে না আর বাঁশ ও বেত ঝাঁড়। তাছাড়াও প্লাস্টিক ও অন্যান্য দ্রব্যের পণ্য টেকসই ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ এখন সেগুলোর ওপর।

সরেজমিনে সাতকানিয়ার, আমিলাইশ,চরতি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,ঐ সব বেত শিল্প  পরিবারগুলোর সবাই বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ঝুড়ি, বাঁশের চাই, ধান চাল রাখার গোলা, চালন, কুলা, জালি, পাখা, মাটি কাটার উড়াসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন প্রকারের জিনিসপত্র তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাঁশের তৈরি পণ্যের কাজে সহযোগিতা করছেন। কেউ বাঁশ টুকরো করছে কেউ বা বেত তুলছেন কেউ বেত দিয়ে ঝুড়িসহ নানা প্রকার পণ্য তৈরির কাজ করছেন। তৈরি করা ঐসব জিনিসগুলো হাট বাজারে বিক্রি করছেন। 

নরুল করিব নামে এক ব্যক্তি বলেন,  তিনি প্রায় বাঁশ শিল্পের সাথে প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ এই কাজের সাথে জড়িত, অতীত বাঁশ শিল্পের কদর থাকলেও বর্তমান তেমন কোন কদর নেই। প্লাস্টিক পণ্য কারনে বাঁশের তৈরি জিনিস পত্রের চাহিদা কমে যাচ্ছে,তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাঁশের দাম অনেক বেশি যার কারনে আমরা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারতেছি না । 

আবুল হোসেন নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, তিনি দীঘ ৫০ বছর যাবৎ এই ব্যবসার সাথে জড়িত,তিনি সাতকানিয়া কেরানিহাট ও লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশহাট সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে ব্যবসা করে আসতেছি, বর্তমান এই ব্যবসা অবস্থা ভালো নেই, আগে বেত শিল্প কদর ছিল অনেক, বর্তমান তেমন কোন চাহিদা নেই। আগে এই ব্যবসার সাথে অনেক লোক জড়িত ছিল যা এখন নেই। দিন দিন মানুষ অন্য ব্যবসার দিকে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাঁশের দাম বেশি এবং প্লাস্টিক পণ্য চাহিদা বেশি হওয়া কারণে এই ব্যবসায় দিন দিন কমে যাচ্ছে।


সর্বশেষ