The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২

রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
সংগৃহীত

অবিরাম প্রচার-প্রচারণার পর আগামীকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। মোট সাত জন মেয়র প্রার্থী ও ২৭টি ওয়ার্ডে ১৪৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৩৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার গতকাল ব্যস্ত সময় পার করেছেন। 

নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বাদ্যবাজনা সহকারে নেচেগেয়ে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ নিজ মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। নাসিকের অলিগলিসহ প্রধান প্রধান সড়ক পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে আছে।

২৭টি ওয়ার্ডেই রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কার পাশাপাশি নৌকা ও হাতির সমর্থকরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। সন্ধ্যায় শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে আইভীর নৌকা মার্কার সমর্থনে পথসভা হয়, বের করা হয় মিছিল।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের হাতি মার্কার সমর্থনে বন্দরের সিরাজদ্দৌলাহ ক্লাব মাঠে নির্বাচনি সভা শেষে একটি মিছিল বন্দরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 

শহরের মিশনপাড়া এলাকায় নিজের প্রধান নির্বাচনি ক্যাম্পে তৈমূর আলম খন্দকার অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চাপ সৃষ্টি করে জনতার রায়কে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেলে সরকার দলীয় নেতারা অবস্থান নিয়েছেন। সার্কিট হাউজ ও ডাকবাংলো ব্যবহার করছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্য নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। তাদের কারণে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আমাকে ও আমার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’ 

অপরদিকে দেওভোগস্থ চুনকাকুটিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘তরুণ ও নারী ভোটাররা আমাকেই ভোট দেবে। ভোটকেন্দ্রে যাতে কোনো সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা না হয় সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজর রাখতে হবে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে পারলে আমার বিজয় নিশ্চিত।’ 

লাখো ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে পরাজিত করতে অনেকগুলো পক্ষ মাঠে কাজ করছে।’ কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার করেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গতকাল বিকালে ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় নৌকার পক্ষে এক পথসভায় নাসিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘ডা. আইভী হঠাৎ করে আপনাদের মধ্যে আসেনি।

অগ্নিপরীক্ষায় পরীক্ষিত এই সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন কে? সে আমাদের আইভী।’ নানক বলেন, ‘মনে রাখবেন কেউ কেউ অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাসীদের উকি-ঝুঁকি আমরা মানবো না। এ নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য আপনারা আইভীকে নির্বাচিত করুন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের কাছে তার সালাম পৌঁছে দিয়েছেন। 

তিনি বলেছেন, আমার পক্ষ থেকে যদি সেলিনা হায়াৎ আইভী নির্বাচিত হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের সব দায়িত্ব আমি নেব। আমি আপনাদের সবাইকে রবিবার ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সেলিনা হায়াৎ আইভী তার শেষ নির্বাচনি প্রচারণা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুও উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে নির্বাচনি প্রচারণায় প্রার্থীদের অধিকাংশ সমর্থকই স্বাস্থ্যবিধি না মানায় নগরবাসী এনিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নাসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে টহল দেওয়া শুরু করেছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে ১৪ প্লাটুন বিজিবিসহ ২৭টি ওয়ার্ডে ও শহরে ৫ হাজার র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯ জন ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনকালে দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। 

এবারই প্রথম ৪২ হাজার ৪৩০ জন নতুন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নৌকা ও হাতির উভয় প্রার্থীই নারী ও তরুণ ভোটারদের বিভিন্ন কৌশলে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।

আগামীকাল ভোট হলেও সর্বশেষ প্রচারণাকালীন সময়ে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকার কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেননি। তবে প্রচারণাকালে দুই জনেই নির্বাচিত হলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করাসহ নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভোটারদের।


আরও পড়ুন