The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএলের সূচনা বরিশালের

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএলের সূচনা বরিশালের
ছবি: ক্রিকইনফো

ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বল হাতে ঝলক দেখালেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দলনেতা মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ফরচুন বরিশালের গড়া ছোট ছোট পার্টনারশিপের কাছে পারলো না তার দল। মিরপুরের চিরচেনা স্বল্প রানের উইকেটে ১২৫ রানের স্কোর করেও সাকিবের বরিশালের কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছে মিরাজের চট্টগ্রাম।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধন্তি নেন ফরচুন বরিশাল। ফলে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৫ রানের সংগ্রহ গড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জবাবে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় ফরচুন বরিশাল।

চট্টগ্রামের ছুঁড়ে দেওয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট কর‍তে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বরিশাল। চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বল হাতে এসেই নাজমুল হোসেন শান্ত। ৬ বলে ১ রান করেন শান্ত। এরপর সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ২৫ রানের জুটি গড়েন সৈকত আলী। সাকিব ১৬ বলে ১৩ রান করে ফেরেন দলীয় ২৮ রানের মাথায় মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে।

এরপর তৌহিদ হৃদয় ১৭ বলে ১৬ রান করে আউট হন মুকিদুলের বলে। হৃদয় যখন ফিরছেন তখন বরিশালের স্কোরবোর্ডে রান ৬২ অর্থাৎ জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৬৩ রানের। ৬২ রানে ৩ উইকেট হারানো বরিশালের এক প্রান্তে আকড়ে থাকেন ওপেনার সৈকত। এই ওপেনার চতুর্থ উইকেটে  ইরফান শুক্কুরকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৩০ রানের জুটি। তবে দলীয় ৯২ রানের মাথায় ইনিংসের ১৫তম ওভারে সৈকতের উইকেট নেওয়ার পরে বলেই শুককুরকে তুলে নেন মিরাজ। এরপর কোনো রান যোগ হওয়ার আগে সালমান হোসেন রানআউট হয়ে ফেরেন।

৯২ রানে ৩ উইকেট থেকে ৯২ রানে ৬ উইকেটের দলে পরিণত হয়ে বরিশাল। মেহেদি হাসান মিরাজ একাই নেন ৪ চট্টগ্রামের ব্যাটারকে। তবে শেষ পর্যন্ত আর পা হড়কায়নি বরিশাল। অভিজ্ঞ ডুইয়ান ব্রাভো এবং জিয়াউর রহমান মিলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ব্রাভো ১০ বলে ১২ আর জিয়াউর ১২ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান আসে সৈকত আলীর ব্যাট থেকে।

চট্টগ্রামের হয়ে ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন মিরাজ আর একটি উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম।

এর আগে সাকিব আল হাসানের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ হয় প্রথম ওভারেই। নাইম হাসানের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই কেননার লুইস নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় চট্টগ্রামের। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চট্টলার দলটি।

বরিশালের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের চাকাও সচল রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম। তিনে ব্যাট করতে আসা আফিফ হোসেন ৬ বলে ৬, সাব্বির রহমান ৮ বলে দুই চারে ৮ রান করে ফেরেন দলীয় ৩৩ রানে। এরপর উইল জ্যাকস ২০ বলে ১৬ রান করে লিন্টটের বলে এলবি হলে দলীয় ৪২ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। ধীর গতির কারণে একটা সময় রানরেট বলছিল স্কোরকার্ডে ১০০-ও তুলতে পারবে না চট্টগ্রাম। কিন্তু শেষ দিকে বেনি হাওয়েলের ২০ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৫ রান তুলতে সক্ষম হয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

ফরচুন বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আলজারি জোসেপ। ৪ ওভারে ৩২ রান দেন এই ক্যারিবিয়ান পেসার। এছাড়া দুটি উইকেট নেন নাইম হাসান। আর একটি করে উইকেট পান সাকিব আল হাসান এবং জেক লিন্টট।

স্কোরকার্ড

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভার, ১২৫/৮; (লুইস ৬, জ্যাকস ১৬, আফিফ ৬, সাব্বির ৮, মিরাজ ৯, শামিম ১৪, নাইম ১৫, হাওয়েল ৪১, মুকিদুল ৪*, শরিফুল ০*); (নাইম ৪-০-২৫-২, সাকিব ৪-০-৯-১, জোসেপ ৪-০-৩২-৩, লিন্টট ৪-০-১৮-১, ৪-০-৩৯-১)।

ফরচুন বরিশাল: ১৮.৪ ওভার, ১২৬/৬; (শান্ত ১, সৈকত ৩৯, সাকিব ১৩, হৃদয় ১৬, শুককুর ১৬, ব্রাভো ১২*, সালমান ০, জিয়াউর ১৯*); (নাসুম ৪-০-১৯-০, মিরাজ ৪-০-১৬-৪, শরিফুল ৩-০-২৯-০, জ্যাকস ১-০-৭-০, হাওয়েল ৩.৪-০-২৬-০, মুকিদুল ৩-০-২৫-১)

ফলাফল: ফরচুন বরিশাল ৮ বল এবং ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ী


আরও পড়ুন