The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

শূন্যতার দাগ কেটে গেছে আব্বুশূন্য ঈদটা: আফরান নিশো

শূন্যতার দাগ কেটে গেছে আব্বুশূন্য ঈদটা: আফরান নিশো
ছবি: সংগৃহীত

ঈদ মানেই স্মরণীয় দিন। তবে ক্ষণটি বিশেষ হয়ে থাকে কোনও না কোনও স্মৃতিতে। মনে দাগ রেখে যাওয়া সেই গল্প শুনতে বিশেষ এ আয়োজন। স্মৃতির আস্তিন খুলে সে কথা জানিয়েছেন সময়ের অন্যতম টিভি অভিনেতা আফরান নিশো-

আমার মনে পড়ে যায়, বাবাশূন্য ঈদের কথা। আমার বাবা মো. আবদুল হামিদ মিয়া ২০২০ সালের ১ অক্টোবর মারা যান। এরপরের যে ঈদটা এসেছিল, সেটা খুব দাগ কেটে গেছে জীবনে। কারণটা অবশ্যই বাবাকে হারানো। আর একটা বিষয় মনে পড়ে, তা হলো ছোটবেলার ঈদ।

ছোটবেলায় একটা আয়োজন থাকে, সেমাই-পায়েস খাবো, নতুন ড্রেস দেখবো, বাবার উপহারের জন্য অপেক্ষা করা।

সেই ঈদগুলো মনে পড়ে খুব। এরপর কিন্তু আর তেমন একটা ঈদের স্মৃতি মাথায় নেই। আর এখন যখন বাবাকে হারালাম তখন এই ঈদটা কঠিনভাবে হাজির হলো।

আব্বু অনেক শাসন করতেন। তবে এর একটা সুবিধাও আমি পেতাম। কারণ, শাসনের পরই আমার জন্য উপহার অপেক্ষা করতো। বিষয়টি পরে বুঝেছি। তখন শাসনটা উপভোগ করতাম। আব্বুদের জেনারেশনের বাবাদের মধ্যে এটি দেখা যেত। তারা সন্তানদের খুবই শাসন করতেন, বকাঝকা করতেন আবার বিষয়টি পুষিয়ে দিতে এক্সটা আদরও দিতেন, উপহার রাখতেন। আমি সেই জেনারেশনের পুত্র। বাবা আমাকে যখন শাসন করতেন তখনই আমি মনে মনে অপেক্ষা করতাম আমার জন্য ভালো কোনও উপহার অপেক্ষা করছে।

আমার বাবা কোনও কিছুতে ‘না’ করতেন না। হয়তো আমি একটা জিনিস চাইলে, তিনি তা দেবেন। খুব দিলদরিয়া টাইপের মানুষ ছিলেন। হয়তো দেরি হতো কিন্তু দিতেন। আমি মাকে বলতাম, ‘জিনিসটা তো দেবেই, আব্বুকে বলো না আগে দিতে। তুমি বলছো না বলেই আব্বু দিচ্ছে না।’ আমি অল্পতেই অস্থির হয়ে যেতাম। আর দেরি হলে আব্বু উপহারের সঙ্গে বাড়তি কিছু রাখতেন।

তাই আমার কাছে ছোটবেলার ঈদ ভালোবাসার দাগ হয়ে থেকে গেছে। আর শূন্যতার দাগ কেটে গেছে আব্বুশূন্য ঈদটা।

-বাংলা ট্রিবিউন।


সর্বশেষ