The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

ইংল্যান্ডে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেন ভাবনা

ইংল্যান্ডে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেন ভাবনা
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ছোট পর্দর জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের রেক্সহ্যাম গ্লিন্ডার ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন এ অভিনেত্রী।

বুধবার (১১ মে) সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। লন্ডনে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে সনদ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সেই ছবি প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। এরপর থেকেই বন্ধু-শুভাকাঙক্ষী আর ভক্তদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভাবনা।

ওই পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক, নিজে নিজেকে বিশ্বাস করা সবচাইতে জরুরি। কেউ পাশে থাকুক না থাকুক নিজের পাশে নিজের থাকাটা জরুরি। খুবই জরুরি। আমার জীবনে আমি অনেকবার আমার মা-বাবাকে খুশী করতে পেরেছি তবুও যেন পরিবারের অন্যরা সব সময় মা-বাবাকে আমার পড়াশুনা নিয়ে একটু খোঁচা কথা বলতে ছাড়ত না। কারণ, মেয়ে নাচ করে, অভিনয় করে, পড়াশুনা তো আমাকে দিয়ে হবেই না।’

জীবনের বাবা-মায়ের অবদানও উল্লেখ করেছেন এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘আমার মা-বাবা আমাকে জীবনে কোনোদিন ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্য বলেনি। সব কিছুতেই মা-বাবা আমার পাশে ছিল। যতবার আমি হেরে যাই আম্মু-আব্বু আমাকে সাহস দেয়। আমার লেখাপড়ার জার্নিটা একদম সোজা ছিল না, অনেক কাজ মিস হয়েছে, অনেক কঠিন হয়েছে। বিশেষ করে করোনার সময়। তবুও আমি লেগে ছিলাম। শুটিংয়ের সময়ও অনলাইনের ক্লাস মিস করিনি। আমার মা-বাবা,আমার বোন যাদের কারণেই আমার মনে হয়েছে পড়তে হবে। আমার বোন না থাকলে যে আমার যে কি হতো আমি ভাবি মাঝে মাঝে। এবং আমার London School of Commerce, Dhaka-র সকল শিক্ষকেরা, যাদের জন্যে আমার লেখাপড়ার পথ সোজা হয়েছে।'

সবশেষে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘আমি তাদেরকে বেশি করে ধন্যবাদ দিতে চাই, যারা আমাকে জাজ করে, যারা আমাকে ছোট করে কথা বলতে ভোলে না। যারা আমাকে টেনে ফেলে দিতে চায়, যাদের আমাকে দেখলে অনেক হাসি পায়, আমি সত্যি আপনাদের বেশি ভালোবাসি। আপনাদের কারণেই আমি চলতে থাকি নিজের মতো করে। আমি শুধু এতটুকু বলব আমার লেখাপড়া কেবল শুরু। আরও অনেক কাজ করতে চাই। একটি দিনও আমি বসে থাকতে চাই না। আপনারা আমাকে আশির্বাদ করবেন।’

২০১৭ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করার জন্য ইউনিভার্সিতে ভর্তি হন ভাবনা। সেখানে দুই বছর পড়ার সুযোগ পান। এরপর করোনার কারণে বাকি দুই বছর দেশে থেকেই অনলাইনেই ক্লাস করেন। নিজের কাজ-অভিনয় সব কিছু ম্যানেজ করা পড়াশোনা চালানো তার জন্য অনেক কঠিনই ছিল। তবে ফল হাতে পাওয়ার পর সব কষ্ট ভুলে গেছেন। আজ তিনি আনন্দিত।

বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ) থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করেন ভাবনা।


সর্বশেষ