The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

কথিত প্রেমিকা বললেন, জিতু আমাকে ফুফু ডাকত

কথিত প্রেমিকা বললেন, জিতু আমাকে ফুফু ডাকত

আব্দুল কাইয়ুম, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যাকারী আশরাফুল আহসান জিতুর প্রেমিকার গুঞ্জন উড়িয়ে আন্টি (ফুপি) দাবি করেছেন কথিত প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার। 

রবিবার (৩ জুলাই) দুপুরে এমন তথ্য দিয়েছেন আশরাফুল আহসান জিতুর কথিত প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার। 

তাসলিমা বলেন, জিতুর বাবা আমাদের জায়গা কিনে দিয়েছেন। তখন থেকে জিতুর বাবার সাথে আমাদের পরিবারের ভাল সম্পর্ক। আমার ভাই জিতুর বাবাকে ভাই বলে ডাকেন। এজন্য তিনি আমার ভাই ও তার ছেলে আমাকে আন্টি বলে ডাকতো। আমাকে অযথা জড়িয়ে আমার ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আমি দোষী প্রমানিত হলে শাস্তি মেনে নেবো। আর যদি আমি নির্দোষ হই তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

তিনি আরো বলেন, আমি একাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়া করি। আমার এসএসসির বই গুলো আমার কাছেই ছিল। সে সব বই জিতু নিয়ে লেখা পড়া করতো। আমার কোন ভাই কিংবা বোন লেখা পড়া করে না। যে তাকে বই গুলো দেবো। জিতু মাঝে মধ্যেই আমার বই নিয়ে যেতো। তবে তিনি শিক্ষক হত্যাকান্ড ন্যাক্কারজনক বলে জিতুর যথাযথ শাস্তি দাবি করেন। 

ওই একই স্কুলের শিক্ষিকা ও তাসলিমার বোন সুমা আক্তার বলেন, আমি ওই স্কুল থেকে লেখা পড়া করে সেই স্কুলেরই শিক্ষক। আমি প্রথম শ্রেণীর শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি বলেন, আমি ও আমার বোন আসলে কোন কিছুই জানতাম না। গণমাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। আসলে শিক্ষককে হত্যা করা পৃথিবীর মধ্যে নিকৃষ্ট কাজ। তার জন্য জিতুর শাস্তি হোক আমরাও চাই। কিন্তু আমার বোন গত ২১ জুন থেকে স্কুলেই যায় নি। তার পরেও তার নাম জড়িয়ে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা ও স্কুল কতৃপক্ষ আমাদের কিছু না বললেও আমরা সামাজিক ভাবে হেয় হচ্ছি। 

এব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। যারা তদন্ত করছেন তাদের বিষয় এটি। তবে শিক্ষক হত্যাকান্ডের বিচার আমারা চেয়েই যাবো। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে শিক্ষক উৎপলকে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেন তারই এক ছাত্র। পরে শিক্ষককে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার (২৭ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় রোববার আশুলিয়া থানায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। এর পর থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সব শেষ গত ২৮ জুন রাতে জিতুর বাবা ও ৩০ জুন জিতুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ও পুলিশ। জিতু ও জিতুর বাবা উজ্জ্বল হাজীর ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সাথে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কার করা হয়েছে গ্রেপ্তার জিতু ও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তাসলিমাকে। যদি  প্রমাণিত হয় ওই শিক্ষার্থী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাহলে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।