The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

পানির অভাবে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

পানির অভাবে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: গত বছরের ভালো দামে আশাবাদি কৃষক এবছর পাট চাষের দিকে ঝুকেছিলো। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবারে পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছিলো উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও। কিন্তু বাদ সেধেছে তাপদাহ ও অনাবৃষ্টি। ফলে পাট কাটার সময় পেরিয়ে গেলেও পানির অভাবে পাট জাগ(পচানো) দেয়া নিয়ে দুশ্চিতার ভাজ কৃষকের কপালে। এমন অবস্থা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার অধিকাংশ পাট চাষির।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ জানান, গত বছরে পাটের ভালো দাম  পাওয়ায় কৃষকরা গত বছরের চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন। এ বছর উপজেলায় ১৫ হাজার পাট চাষি তাদের  ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে তোষা জাতের ৪ হাজার  হেক্টর ও দেশী জাতের ১৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। 

উপজেলার কৃষকদের সাথে কথাবলে জানাগেছে,বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতিতে চলতে গ্রীষ্মের তাপদাহ। কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ার মাঠের পাট মাঠেই পুড়ছে। অনেকে পাট কেটেও পানির অভাবে জাগ দিতে না পেরে জমিতে স্তুপ করে রেখেছেন। অনেক কৃষক পুকুর বা ছোট জলাশয়ে সেচ দিয়ে পানির ব্যবস্থা করলেও তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। নিশ্চিত লাভ জেনেও প্রকৃতির বিরুপ আচরনে কৃষকের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

গুরুদাসপুর পৌরসদরের আনন্দ নগর মহল্লার কৃষক আবু সাইদ,দেলবর হোসেন,মকছেদ আলীসহ অন্তত ১০জন কৃষক জানান,প্রথমদিকে সংকটের কারনে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছিলো তাদের। এখন পানির অভাবে পাট জাগ দিতে সমস্যা থাকায় মাঠ থেকে দূরে নদী ও বিলে পাট নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে তাদের শ্রমিক ও পরিবহনের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। একবিঘা জমিতে পাটচাষে খরচ প্রায় ১৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড় ফলন ৮মন। প্রতিমন পাটের বর্তমান বাজার দর ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। এদামে পাট বিক্রি করলে তারা খুববেশি লাভবান হবেন না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, উপজেলায় পাট চাষ এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। মাঠে পাটের অবস্থাও ভাল। এখন পাট কাটার সময় চলছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে কৃষক পাট নিয়ে হতাশায় রয়েছেন। আমরা কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছি। এতে যেমন খরচ কম তেমনি  পাটের মানও থাকে।