The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

‘হাওয়া’ সিনেমার গালিগালাজ, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্মাতা

‘হাওয়া’ সিনেমার গালিগালাজ, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্মাতা
ছবি: সংগৃহীত

বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। মুক্তির এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনো টিকিট পাওয়া দুষ্কর ঢাকার সিনেমা হলগুলোতে। তবে সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটি নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। এরইমধ্যে একাধিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এই সিনেমাকে ঘিরে। সেগুলোর একটি হলো সিনেমাটিতে থাকা অসংখ্য গালিগালাজ।

বহু মা-বাবা ছেলেমেয়েদের নিয়ে যাচ্ছেন ‘হাওয়া’ দেখতে। কিন্তু সিনেমাটি দেখতে বসে তারা বিব্রত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, এ সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অকথ্য ভাষার অসংখ্য গালিগালাজ।

শিশু সাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ সন্তানদের সিনেমা হলে গিয়ে বিব্রত হয়েছেন। এমনটা জানিয়ে ফেসবুকে বিষদ লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘সিনেমা শেষ করার পর ভয়ানক এক অপরাধবোধ কাজ করল। টাকার বিনিময়ে আমি আমার সন্তানদের গালিগালাজ শেখাতে নিয়ে গেলাম না তো! পুরো সিনেমাজুড়ে গালিগালাজ আর খুনোখুনি!’

আহমেদ রিয়াজ বলেন, ‘গালাগালি আর খুনোখুনিকে পুঁজি করে নির্মিত সিনেমাকে যারা বাংলা সিনেমার হাওয়া বদলের দিনগুণছেন তাঁরা যথার্থই বলেছেন। তবে বদলে যাওয়া হাওয়াটা মোটেই সুবাতাস নয়। দুর্গন্ধময়। খুনোখুনি আর গালিগালাজ দেখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আমার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাই। ’

রম্য পোর্টাল ইয়ার্কির সম্পাদক সিমু নাসের চলচ্চিত্রের কয়েকটি বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘’হাওয়া’ সিনেমাটির প্রচার প্রচারণায়, পোস্টারে, ট্রেইলারে এটি কত উর্ধ্ব বয়সীদের জন্য উপযোগী তার কোনো সতর্কবার্তা নেই বা থাকলেও সেটা এমনভাবে আছে যা এখনও পর্যন্ত আমার বা কারও চোখে পড়েনি। এ নিয়ম কি উঠে গেলো বাংলাদেশ থেকে?’’

বয়স উল্লেখ না থাকায় শিশুদের নিয়ে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন এমন ঘটনার উল্লেখ করে সিমু নাসের বলেন, ‘কোনো ধরনের সর্তকবার্তা না থাকায় আমার অন্তত ৪ জন বন্ধু বাচ্চাদের নিয়ে সিনেমাটি দেখতে গিয়ে অত্যন্ত বিপদে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে দুটি বাচ্চা সিনেমায় প্রদর্শিত তাদের অনুপযোগী ভায়োলেন্স দৃশ্য ও ফাউল ল্যাঙ্গুয়েজের কারণে ট্রমাটাইজড হয়ে হলের ভেতরই কাঁদতে শুরু করেছে এবং হল থেকে বের হয়ে এসেছে। বাকিদের মনের অবস্থাও বুঝতেই পারছেন। ’

তবে তার সিনেমায় কোনো গালি নেই বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন নাটক ও বিজ্ঞাপন থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসা মেজবাউর রহমান সুমন। গালিগুলোকে তিনি আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ‘আমার সিনেমায় গালি নেই। এটা আঞ্চলিক ভাষা। ওই অঞ্চলের মানুষ এভাবেই কথা বলে। সে ভাষা যেভাবে এসেছে আমরা তাই দেখিয়েছি। গালি অন্য জিনিস।’

তবে শুধু গালি নয়, নকলের অভিযোগও উঠেছে ‘হাওয়া’র বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের দাবি, ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া কোরিয়ান সিনেমা ‘সি ফগ’-এর নকল হলো ‘হাওয়া’। নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ‘হাওয়া’ আমাদের সিনেমা, আমাদের গল্প।’

এদিকে, সিনেমাটিতে খাঁচায় বন্দি পাখি দেখানোয় এবং একপর্যায়ে সেটিকে পুড়িয়ে খাওয়ার দৃশ্য নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। সিনেমাটিতে আইন ভেঙে খাঁচায় বন্যপ্রাণী প্রদর্শন ও হত্যার দৃশ্য রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট আইনের লঙ্ঘন। এ নিয়ে পরিচালকের আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক ছানাউল্যা পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘জানতে পেরেছি ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ লঙ্ঘন করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

গত ২৯ জুলাই দেশের ২৪টি সিনেমাহলে মুক্তি পায় ‘হাওয়া’। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরীফুল ইসলাম রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস।