The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২

  • ‘দেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না’ প্রধানমন্ত্রীর জন্যই সারাদেশে শান্তির সুবাতাস বইছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ‘ত্বরিৎ’ আবেদন করেছে ইউক্রেন বিএনপির বক্তব্য ও রডের মাথায় জাতীয় পতাকা একসূত্রে গাঁথা: তথ্যমন্ত্রী লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টি পুতিনকে ‘রক্তপিপাসু’ বললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পাবনায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে যুবককে হত্যা দুর্গাপূজার সাথে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: রাষ্ট্রপতি মোল্লাহাটে শিশু কিশোর কিশোরী কার্যালয়ের যুগপূর্তি অনুষ্ঠিত বিএনপির মিথ্যাচারে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
  • হিজাব-বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করলো ইরান

    হিজাব-বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করলো ইরান
    ছবি: সংগৃহীত

    ইরানে হিজাব-বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনি হিজাব পুলিশের নির্যাতনে মারা যাওয়ার পর ফুঁসে উঠেছে দেশটির জনগণ। বড় শহরগুলোতে অব্যাহত আছে বিক্ষোভ। এছাড়া অনলাইনেও সরকারবিরোধী প্রচারণা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটিতে। খবর আল-জাজিরার।

    ইন্টারনেট ওয়াচডগ নেটব্লকস জানিয়েছে, সমগ্র ইরানজুড়েই একই অবস্থা দেখা গেছে। কোনো মোবাইল ইন্টারনেট প্রভাইডার এবং ব্রডব্যান্ড থেকেই এই দুটি অ্যাপে ঢোকা যাচ্ছিল না। প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হয় এবং এর কয়েক ঘণ্টা পর বন্ধ করা হয় ইনস্টাগ্রামও।

    দেশটির রাজধানী তেহরানের দুই বাসিন্দা জানান, তারা হোয়াটসঅ্যাপে শুধু টেক্সট পাঠাতে পারছেন কিন্তু কোনো ছবি যাচ্ছে না। অপরদিকে ইনস্টাগ্রামে প্রবেশই করা যাচ্ছে না। 

    গত কয়েক বছরে ইরানে ফেসবুক, টুইটার, টেলিগ্রাম, ইউটিউব এবং টিকটকের মতো অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্লক করে রাখায় এই দুই মাধ্যম সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছিল।

    এদিকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। অন্তত ১৫টি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভকারীদের পুলিশকে ধাওয়া করা, গুলির শব্দ এবং মেয়েদের হিজাবে আগুন লাগানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে।

    এই ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভে একেবারে সামনের কাতারে রয়েছেন ইরানের নারীরা। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, উরমিয়া, পিরানশাহর এবং কেরমানশাহে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত তিন বিক্ষোভকারীর মধ্যে এক নারীও রয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কেরমানশাহে দুজন বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি শিরাজে একজন পুলিশ সহকারীকে হত্যার অভিযোগ এনেছে।

    গত সপ্তাহের মঙ্গলবার মাশা আমিনিকে তেহরান থেকে আটক করা হয়। আটকের পর তিনি থানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ থেকে আসা ২২ বছর বয়সী এই কুর্দি নারী তিনদিন কোমায় থাকার পর শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান।

    তেহরানে তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকার সময় ইরানের কঠোর নৈতিকতা বিষয়ক পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তারা আমিনির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে, তিনি হিজাব বা চাদর দিয়ে চুল ঢেকে রাখা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরার আইন ভঙ্গ করেছেন।

    পুলিশের একটি ডিটেনশন সেন্টারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি কোমায় চলে যান। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাদা আল-নাশিফ বলেছেন, পুলিশ আমিনির মাথায় লাঠি দিয়ে বাড়ি মারে এবং তাদের একটি গাড়ির সঙ্গে আঘাত করার পর তার মাথা ফেটে যায়।

    তবে পুলিশ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে হঠাৎ করেই তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে তার পরিবার বলছে, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন।

    এদিকে নাদা আল-নাশিফ বলছেন, মাশা আমিনির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগগুলো অবশ্যই স্বাধীন ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবিলম্বে, নিরপেক্ষভাবে এবং কার্যকরভাবে তদন্ত করা উচিত এবং এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, তার পরিবার যেন সত্য ঘটনা জানতে পারে এবং তারা ন্যায়বিচার পাবে।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক সহযোগী সোমবার আমিনির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান অধিকার লঙ্ঘন করেছে তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন