The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

লাল-হলুদ রঙের পোশাক পরা সম্পর্কে নবিজি কী বলেছেন?

লাল-হলুদ রঙের পোশাক পরা সম্পর্কে নবিজি কী বলেছেন?

পুরুষের জন্য রেশম ও স্বর্ণমিশ্রিত পোশাক পরা নিষিদ্ধ। কিন্তু হলুদ ও লাল পোশাক পরা সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য পাওয়া যায়। কিন্তু লাল ও হলুদ পোশাক পরা সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী বলেছেন?

চার মাজহাবের প্রসিদ্ধ আলেমদের সম্মতিক্রমেও এটা হারাম যে, পুরুষরা রেশম ও স্বর্ণ পরতে পারবে না। এটি তাদের জন্য নিষিদ্ধ।

হাদিসে পাকে এসেছে- হজরত আলি ইবনু আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একদিন আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ডান হাতে রেশম ও বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন-

إِنَّ هَذَيْنِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِيْ

‘এ দুটি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।’(আবু দাউদ ৪০৫৭, ৪০৪০-৪০৫৩; নাসাঈ ৫১৪৪; ইবনু মাজাহ ৩৫৯৫)

লাল ও হলুদ রঙের পোশাক হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন-

رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ ‏ إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلاَ تَلْبَسْهَا

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পরনে হলুদ রংয়ের (জাফরান রঙে) দুটি বস্ত্র দেখে বললেন, এগুলো কাফেরদের বস্ত্র। অতএব তুমি এসব পরবে না।’ (মুসলিম ২০৭৭)

অন্য বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন-
 

رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ ‏"‏ أَأُمُّكَ أَمَرَتْكَ بِهَذَا ‏ قُلْتُ أَغْسِلُهُمَا‏ قَالَ ‏ بَلْ أَحْرِقْهُمَا

‘নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার গায়ে হলুদ রংয়ের দুটি বস্ত্র প্রত্যক্ষ করে বললেন, তোমার মা কি তোমাকে এ কাজে নির্দেশ দিয়েছেন? আমি বললাম, এ দুটি ধুয়ে ফেলি? তিনি বললেন, বরং দুটিকেই পুড়ে ফেল।’ (মুসলিম ২০৭৭)

হাদিসের ব্যাখ্যা: সহিহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) مُعَصْفَرَيْنِ অর্থাৎ কুসম্ব রং দ্বারা রঙিন দুটি কাপড় পরেছিলেন। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এটা পরতে নিষেধ করেন এবং তা জ্বালিয়ে ফেলতে বলেন। এর কারণ হলো- এগুলো অমুসলিম সাধু-সন্ন্যাসীদের ধর্মীয় পোশাক। অনেক বৈরাগী-সন্ন্যাসীরাও গেরুয়া কিংবা কুসম্ব রঙের বিশেষ এক জোড়া পোশাক পরিধান করে থাকে। বর্তমানেও তাদের এ রকম পোশাক পরিলক্ষিত হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্ভবত তাদের সাথে সাদৃশ্যশীল এই পোশাক দেখেই উক্ত সাহাবিকে তা পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।এমনকি তার নমুনাও যেন বাকী না থাকে তাই তা জ্বালিয়ে ফেলতে বলেছেন।

আবার সাহাবি এ কাপড় ধৌত করে পরার অনুমতি চাইলেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অনুমতি দেননি। কেননা ধুয়ে ফেললে গন্ধ দূর হলেও রং দূর হয় না। অথবা ঐ কাপড় দুখানা বিশেষ ডিজাইনে তৈরি ছিল যা কাফির মুশরিকদের ধর্মীয় প্রতীক বহন করছিল। তাই মুসলিমদের ঐ কাপড় পরা আদৌ সঙ্গত নয়। অতএব তিনি জ্বালিয়ে সমূলে ধ্বংস করার নির্দেশ প্রদান করেন। (মিরক্বাতুল মাফাতিহ; শারহুন নববি ১৪শ খন্ড ২০৭৬/২৪)

হজরত ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন-
 

لَا أَرْكَبُ الْأُرْجُوَانَ، وَلَا أَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ، وَلَا أَلْبَسُ الْقَمِيصَ الْمُكَفَّفَ بِالْحَرِيرِ

‘আমি লাল রঙের জিনপোষে সওয়ার হই না, হলুদ (কুসুম) বর্ণের কাপড় পরি না এবং রেশম আটকানো জামা পরিধান করি না।...’ (আবু দাউদ ৪০৪৮)

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু নিষেধ করেছেন সেহেতু অবিমিশ্র উজ্জ্বল লাল ও হলুদ উভয় রংয়ের পোশাক/কাপড় পুরুষদের জন্য না পরাই উত্তম।
ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার আল মাজমুতে উল্লেখ করেছেন, তবে লাল ও হলুদের সঙ্গে অন্য রঙ মিশ্রিত থাকলে উক্ত পোষাক পরায় কোনো বাধা নেই।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাল রঙের পোশাক পরেছিলেন মর্মে এক হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ হাফিজাহুল্লাহ বলেন, ‘লাল রংয়ের কাপড় তখন জায়েয, যখন লাল রংয়ের সাথে বিভিন্ন রং থাকবে। আর যদি শুধু এক কালারের লাল হয়ে থাকে তাহলে সে কাপড় পরা যাবে না। (শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতাওউল ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব, প্রশ্ন নং-৮৩৪১)।

একথা পরিস্কার যে এই উম্মতের পুরুষদের জন্য রেশমের পোশাক ও স্বর্ণ মিশ্রিত পোশাক পরা সরাসরি হারাম। এ বিষয়ে আহালুল ইমামগনের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। আর লাল এবং কুসম্ব (গেরুয়া হলুদ) রংয়ের পোশাক পরিধানের সমন্বয় হল অবিমিশ্র উজ্জ্বল লাল রংয়ের কাপড় পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। এটা নিয়ে জমহুর ওলামাগণ একমত। তবে হলুদ কাপড় পরা সম্পর্কে ওলামাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। কেননা হাদিসে যে শব্দটি এসেছে(الْمُعَصْفَرَ) এর অর্থ বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে অনেকে হলুদ করেছেন আবার অনেকে কুসম্ব বা রঙিন গেরুয়া রং করেছেন। এটাই মতপার্থক্য তবে বিশুদ্ধ মতে (اصْفَرَ) শব্দের অর্থ হলুদ। কিন্তু হাদিসে এসেছে (الْمُعَصْفَرَ) মুয়াসফার শব্দের অর্থ কুসম্ব বা গেরুয়া জাফরান ইত্যাদি। যেটা মূলত বৌদ্ধ-ভিক্ষু, বৈরাগী-সন্ন্যাসীরাও গেরুয়া কিংবা কুসম্ব রঙের বিশেষ এক জোড়া পোশাক পরিধান করে থাকে। তাই যারা বলেছেন হলুদ পোশাক পরিধান করা নিষিদ্ধ বা নাজায়েজ নয় এই মতটাই অধিকতর সঠিক। পাশাপাশি কাপড়ে লাল ও কুসম্ব বা গেরুয়া রং এর সাথে অন্য রং মিশ্রিত থাকলে উক্ত লাল এবং গেরুয়া পোষাক পরিধান করতেও কোন বাধা নেই। ইনশাআল্লাহ। (নববি, আল-মাজমু‘ ৪/৩৩৭)

তবে মতানৈক্য এড়াতে মুত্তাকি তথা আল্লাহওয়ালাদের উচিত বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ থাকলেও তাক্বওয়ার পোশাক হিসাবে লাল ও কুসম্ব বা গেরুয়া রঙ এড়িয়ে চলা। কেননা মুত্তাকিদের একটি গুণ হলো তারা সন্দেহপ্রবণ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবে।


নামাজের সময়সূচী

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২
Masjid
ফজর ৪:৪৮
জোহর ১১:৪২
আসর ৪:১৩
মাগরিব ৫:১৯
ইশা ৬:৩১
সূর্যোদয় ৬:০৫
সূর্যাস্ত ৫:১৯