The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের ইলিশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান মমতা

বাংলাদেশের ইলিশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান মমতা

প্রতি বছর ইলিশের মৌসুমে বাংলাদেশের মুখ চেয়ে থাকতে হয় পশ্চিমবঙ্গকে। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ইলিশের ট্রাক পশ্চিমবঙ্গে ঢোকামাত্র যেন সেখানকার বাঙালিদের রসনাতৃপ্তির ষোলোকলা পূর্ণ হয়। তবে এবার বাংলাদেশের উপর ইলিশ নির্ভরতা কমাতে বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মমতা জানান, পশ্চিমবঙ্গেও ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারে ইলিশ নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র করা হয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়ত ইলিশের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা চলছে। মমতার দাবি, ওপারের ইলিশের উপর তাদের আর নির্ভর করতে হবে না।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে বাংলাদেশের ইলিশের ওপর থেকে আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। সেই সঙ্গে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদী ও সমুদ্র থেকে খোকা ইলিশ (ইলিশের পোনা বা জাটকা) ধরা বন্ধ করতে হবে।’

সমুদ্রের বাসিন্দা ইলিশ প্রতি বছর বর্ষাকালে ডিম পাড়তে বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন বিভিন্ন নদীতে যায়। ডিমপাড়া শেষে আবার সমুদ্রে ফিরে আসে।

কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের সরকার বছরের একটি নির্দিষ্ট ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যে সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেটি মা ইলিশের ডিম ছাড়ার চুড়ান্ত মৌসুম। নিষেধাজ্ঞা ঠিকমতো কার্যকর হচ্ছে কিনা— তা তদারকিতেও বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসন বেশ কঠোর।

বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বঙ্গোপসাগরের উপকূল এবং সংলগ্ন যথেষ্টসংখ্যক নদী রয়েছে; সেসব নদীতে ডিম দিতে সাগর থেকে ইলিশও যায়; কিন্তু লাগামহীনভাবে মা ইলিশ ও জাটকা ধরার কারণে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদনের ধারেকাছেও নেই পশ্চিমবঙ্গ।

ইতোমধ্যে জাটকা বা ইলিশের পোনা ধরা বন্ধে আইন করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার, কিন্তু সেখানকার বাজারের ছবিতে সেই আইনের ছবি মেলে না। মাঝারি ও বড় ইলিশ বহুমূল্য হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বাজারে দেদার বিক্রি হয় খোকা ইলিশ। দামে কম, আবার স্বাদেও প্রমাণ আকারের ইলিশের ছিটেফোঁটা পাওয়া যায়।

কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয় থেকে যে ইলিশ হারিয়ে যাচ্ছে, তার প্রধান কারণ এই জাটকা আহরণ।

বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেবল আইন করে খোকা ইলিশ ধরা বন্ধ করা যাবে না। মানুষকে সচেতন করতে হবে। আমরা চাইছি আমাদের খোকা ইলিশ ধরা বন্ধের অভিযানে মৎস্যজীবীরা এক হোন।’

‘তারা সচেতন হলে রাজ্যে খোকা ইলিশ ধরা বন্ধ হবে। ইলিশের বংশবৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়বে এবং সেসঙ্গে কমবে মূল্যও।’

ইতোমধ্যে রাজ্যে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবারে একটি গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডায়মন্ড হারবারে ইলিশ নিয়ে একটি গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করেছি। সেখানে এই রাজ্যে আরও বেশি করে ইলিশ উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। এই গবেষণাকেন্দ্রে প্রতিনিয়ত ইলিশের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে এই রাজ্যে প্রচুর ইলিশ উৎপাদিত হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে।’

ইলিশের পাশপাশি অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গে মাছ চাষ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু ইলিশ নয়, আমাদের নদী ও জলাশয়ে অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। মাছের চাষ বাড়াতে হবে। এতে একদিকে রাজ্যে মাছের উৎপাদন বাড়বে, সেই সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থানও হবে।’

‘আমরা সবাই যদি সচেতন হই, তাহলে আমাদের আর ওপারের ইলিশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।’


নামাজের সময়সূচী

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২
Masjid
ফজর ৪:৪৮
জোহর ১১:৪২
আসর ৪:১৩
মাগরিব ৫:১৯
ইশা ৬:৩১
সূর্যোদয় ৬:০৫
সূর্যাস্ত ৫:১৯

আরও পড়ুন