The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১

প্রধানমন্ত্রী জাস্ট একটা জাদুর পরিস্থিতি তৈরি করেন: রিজভী

প্রধানমন্ত্রী জাস্ট একটা জাদুর পরিস্থিতি তৈরি করেন: রিজভী
ফাইল ছবি

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ সাংবাদিকরা অবরুদ্ধ থাকুক, কথা বল না। বেঁচে থাকলেও তুমি জীবন্ত লাশ। গোটা জাতিকে এতিম করার সব প্রচেষ্টা নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। তিনি ক্রমাগতভাবে সেটাই করছেন। 

তিনি বলেন, আজকে টেকনোলজির কারণে অনেক কিছুর সংবাদ চলে আসছে। সংবাদ চলে আসছে বলেই অনেক কিছুর খবর চলে আসে। আজকে অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ পাচার করছেন। তাদেরকে সরকার কিন্তু কোনো টার্গেট করছেন না, তাদেরকে ধরেন না। আজকে সাংবাদিকরা কয় টাকা বেতন পান? আজকে বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এদের অনেককে আমরা চিনি।

অনেকের মাস গেলে খাওয়ার পয়সা থাকে না। এদের অ্যাকাউন্ট চেক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার মানে সামনে নির্বাচন আসছে এই নির্বাচনে যত ধরনের অনাচার, যত ধরনের অপপ্রক্রিয়া আছে এটা সরকার করবে এবং এর বিরুদ্ধে যেন কোনো সাংবাদিক যাতে না লিখে এবং তার পত্রিকায় কোনো ধরনের প্রচার না দেয়। এই কারণেই রাষ্ট্রীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। 

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে গণতন্ত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  

আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আইনই যেখানে নেই সেখানে আইন দিয়ে কী করবেন? এতে আপনাদের উদ্দেশ্যটা বোঝা যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশন এমন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যে, নির্বাচন কমিশন নিজেই একটি স্বাধীন সত্তা। সেই স্বাধীন সত্তার যে ক্ষমতা নিজেই স্বেচ্ছামূলক আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি কেএম নুরুল হুদা। এই ধরনের ব্যক্তিকে খুঁজে আনতে চান আপনারা (আওয়ামী লীগ)। কেএম নুরুল হুদা অত্যন্ত জরুরি আপনাদের কাছে। কারণ নিশিরাতে নির্বাচন জায়েজ করবে কে? প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন জায়েজ করবে কে? এখন স্বতন্ত্র কেউ ও নির্বাচন করতে চায় না। তারা জানে যে নির্বাচনের দিন শেষে সরকারি দলের যে থাকবে তাকে নির্বাচিত করা হবে। 

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব আর হাছান মাহমুদ সাহেব কেএম নুরুল হুদার মতো লোক খোঁজার জন্য যত ধরনের কাজ করা দরকার সেই কাজগুলোই তারা করছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ সুতরাং তাদের খুঁজে বের করতে হবে কেএম নুরুল হুদার মতো একজন লোক খুঁজে পাওয়া যায় কি না। কারণ আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের আরেকটি পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নির্বাচনে কেএম নুরুল হুদার মতো সিল মারবে বৈধতা দেবে তাদের এমন একটা লোক প্রয়োজন। এজন্য সংবিধানবহির্ভূত, আইনবহির্ভূত কথাবার্তা বলছেন তারা। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে কিছু কিছু ডায়ালগ দেন। জাস্ট একটা জাদুর পরিস্থিতি তৈরি করেন।  মানুষ এই জাদু দেখে বিমোহিত হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা ভাবে যে, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত বেকুব। 

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। মানুষ ভোট দিতে যাবে দেখবে যে তার ভোট আগেই হয়ে গেছে, অথবা সে ভোট দিতে যাবে না, অথবা সে জানবে যে তার ভোটটা রাতেই দেওয়া হয়ে গেছে। এই নির্বাচন কমিশন যেই পদ্ধতিগুলো শুরু করেছে এই পদ্ধতি আমরা চাই না। বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে এবং যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিশ্বাস করে তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি আজকে প্রবল বেগে রাস্তায় নামতে হবে। তার কোনো বিকল্প নেই। আর নির্বাচন কমিশন স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে কাজ করবে তখনই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ সরকার যখন প্রতিষ্ঠিত হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। 

তিনি বলেন, সরকারে যারা আছেন তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান। তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান, তারা বিরোধী দল শূন্য দেশ কায়েম করতে চান। সেখানে তো বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাদের কথায় কোথাও গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। ইতিহাসকে পদদলিত করে মাটিচাপা দিয়ে তারা তাদের মতো ইতিহাস রচনা করেন। সেই দেশে আপনি যাকে দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন সে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না যদি একটি নির্দলীয় সরকার না হয়। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সাবেক সাংসদ মাসুদ অরুন, মৎসজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান সাগর প্রমুখ বক্তব্য দেন।