The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

সাদা কাগজে বিয়ে, সাদা কাগজেই বিচ্ছেদ

সাদা কাগজে বিয়ে, সাদা কাগজেই বিচ্ছেদ

মিজানুর রহমান নয়ন,কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কাবিন ছাড়াই সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংসারে বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক পরে আবার সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়েই ডিভোর্স বা বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও এঘটনায় দুই লক্ষ টাকা জরিমানা গুনেছে ছেলে পক্ষ।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড নাউতি গ্রামের নিজামের বাড়িতে এ বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী শিলাইদহের আতিয়ার রহমান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

এলাকাবাসী ও ভিকটিমের পরিবার সুত্র জানায়, গেল বছরে ৩ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে সোহান (২৪) নামের এক বে- সরকারি চাকুরীজীবীর সাথে বিয়ের কথা হয় ওই ছাত্রীর। সেহান উপজেলার নন্দনালপুর ইউনিয়নের শিকরামপুর গ্রামের বারেকমোড় এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

কিন্তু ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় বিয়েতে প্রথমে থেমে যায়। পরে সামাজিকভাবে স্থানীয় মাতব্বরদের সহযোগীতায় সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাঁদের। বিয়ের পর থেকেই নানান কারনে বনিবনা হচ্ছিল না তাঁদের। অবশেষে গত শনিবার বিকেলে দুই লক্ষ টাকা লেনদেনে সাদা কাগজ ও তিনশো টাকার স্ট্যাম্পে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদ কার্য সম্পন্ন করে শিলাইদহ ইউনিয়নের নিকা রেজিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

এবিষয়ে ওই ছাত্রীর ভিভোর্স প্রাপ্ত স্বামী সোহান বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল গেল বছরের ৩ সেপ্টেম্বর। তবে মেয়ের বয়স কম থাকায় বিয়ের কাবিন ছিলোনা। অভ্যন্তরীন কারনে আমাদের সামাজিকভাবে ডিভোর্স (বিচ্ছেদ) হয়েছে। মাতব্বররা দুই লক্ষ টাকা জরিমানা ধরেছিল। আমি পরিশোধ করেছি।

এবিষয়ে শিলাইদহ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর জামাল শেখ মুঠোফোনে বলেন, মেয়ের বয়স কম ছিল। ওই একভাবে মিটমাট করা হয়েছে। এনিয়ে আর কিছু বলেননা আপনারা। তবে এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি ওই ছাত্রীর পরিবার।

এবিষয়ে শিলাইদহ ইউনিয়নের নিকা রেজিস্টার (১৩৮১) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওদের বিয়ে কোথায় হয়েছিল জানিনা। তবে উভয় পক্ষের সম্মতি ছিল। তাই বৈধ কাবিন ছাড়ায় তালাকের ব্যবস্থা করেছি। আমার ভুল হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজনীন ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি খুব দুঃখজনক। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও পড়ুন