The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১

স্ত্রী কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার খুশিতে ৫০ হাজার টাকার ফুচকা খাওয়ালেন বাবা

স্ত্রী কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার খুশিতে ৫০ হাজার টাকার ফুচকা খাওয়ালেন বাবা
ছবিঃ সংগৃহীত

সৃষ্টিজীবের মধ্যে মানুষ মহান আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি। আর নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই সমাজ-সংসার সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নারী ও পুরুষ একে অপরের মুখাপেক্ষী। পুত্রসন্তান যেমন আল্লাহর নিয়ামত; তদ্রƒপ কন্যাসন্তানও আল্লাহর নিয়ামত।

কিন্তু  অনেক পরিবারে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে আজও গঞ্জনা শুনতে হয় মাকে, অনেক ক্ষেত্রে স্বামীরাও নিজের কন্যা সন্তানকে মেনে নিতে না পেরে স্ত্রীকে দোষারোপ করে থাকেন, তবে এ ক্ষেত্রে নজির গড়ছেন এই ফুচকা বিক্রেতা।

 কন্যাসন্তানের জন্মের খুশিতে ভূপালবাসীকে বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়েছেন তিনি! ফুচকা খাওয়াতে ৫০ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ করে ফেলেছেন মেয়ে হওয়ার আনন্দে।
 অঞ্চল গুপ্ত নামে এ লোকটি ভূপালের কোলার এলাকায় ফুচকা বিক্রি করেন। মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন তিনি। যদিও পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে তার মানসিকতা যাচাই করা বোকামি হবে।

চলতি বছরের ১৭ আগস্ট তার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এটি অঞ্চল গুপ্তের দ্বিতীয় সন্তান। বছর দুয়েক আগে তার স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তখনও কন্যাসন্তান চেয়েছিলেন অগুপ্ত। দ্বিতীয় সন্তান কন্যা হওয়ায় যেন স্বপ্নপূরণ হয়েছে তার।

বাঁধভাঙা খুশিতে প্রথম সন্তানের জন্মদিনের দিনই কন্যাসন্তানের জন্মের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। তাই আগে থেকেই তার দোকানে আসা সব ক্রেতাকে বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর দিনক্ষণ জানাতে শুরু করেছিলেন।

ওই বিশেষ দিন বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ানোর কথা ঘোষণা করে একটি বোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন অঞ্চল। কথামতো সম্প্রতি বিনামূল্যে ফুচকা খাইয়ে কন্যাসন্তানের জন্ম উদযাপন করলেন।

বিনামূল্যে ফুচকা খাওয়ার খবর ঝড়ের গতিতে গোটা ভূপালে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দোকানের সামনে রীতিমতো ফুচকাপ্রেমীদের লাইন পড়ে গিয়েছিল।

রাস্তার পাশে যেখানে ফুচকার ঠেলাগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, তার পাশেই বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন অঞ্চল।

মানুষের খাবার সুবিধার্থে কয়েকটি টেবিলও পেতে দিয়েছিলেন। প্রতি টেবিলে এক ঝুড়ি করে ফুচকা এবং তেঁতুল জল ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে দিয়েছিলেন। সবাইকে পরিবেশন করা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই যাতে প্রয়োজনমতো ফুচকা টেবিল থেকেই নিয়ে খেয়ে নিতে পারেন অতিথিরা, সে দিকে বিশেষ নজর ছিল তার। 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা